আনকথা #১৪
"যে দূর দূরের নয়,যে দূর কাছের থেকে দূর
যে আকাশ ভরে আছে আকাশের ভিতরে বিধুর"
এমন দূর আর এমন আকাশ চোখে নিয়ে নিয়ে জীবন চলে গেলো প্রায় অর্ধেক। কী জানি অর্ধেক নাকি প্রায় পুরোই চলে এসেছি। এক অদ্ভুত সঞ্চলন কাজ করে ভিতরে ভিতরে, বাইরে কথা থাকে না, ঠোঁটে হাসিটাও লেগে থাকে ঠিক। জলের কাছে, গাছের কাছে এসে দাঁড়ালে দুদন্ড আরাম লাগে যেন। ডানায় ভোরের রোদ্দুর মাখা প্রজাপতি দেখে মনে ভাবি কত অপচয় করেছি এ প্রাণের। অপাত্রে রেখেছি প্রেম, ভালোবাসা ভেবে মুঠিতে ধরেছি বালি।
জীবন তো তবু ফেরায়নি মুখ - নিরাপদ শৈশব আর আঙুল আঁকড়ে থাকা ভাইবোন, স্বার্থহীন বন্ধুতা দিয়েছে, দুহাতের পাতায় দিয়েছে সন্তানের মুখ, পথের সঙ্গী হয়েছে কেউ তার অনি:শেষ ছায়াটুকু নিয়ে।
মহাবিশ্বে, যাবতীয় যুক্তি-তর্কের বাইরেও যে বিপুল তরঙ্গ, যেখানে নিরন্তর অনন্তআনন্দধারা প্রবহমান, সেখানে অন্তরের সবটুকু কৃতজ্ঞতা ফুলের মতো অঞ্জলি দিতে সাধ হয়। যারা আছে , হয়তো আগেও কখনো কিছু পিছুটান রাখা ছিলো। যারা গেলো, হয়তো তাদের সাথে ততটুকুই খেলা ছিলো। এ জীবনের বাকি যত না পাওয়া ভাসিয়ে দিতে ইচ্ছে করে তিরতির ঝোরাটির জলে, যার নাম সময়। হয়তো কখনও কোনও বাঁকে আবার কুড়িয়ে পাবো তাকে, আমার নিজের করে।
বুদ্ধপূর্ণিমার রাতে এবারে সমবেত এক মেডিটেশনে অংশ নিলাম। অনেকটা সময় নিজেকে শান্ত করে বসিয়ে রাখলাম। বাইরে তখন শহর জুড়ে বৃষ্টি। ফেরার পথে মেঘ ছিঁড়ে চাঁদ উঠলো। লেকের কাছে দুপাশের রাস্তায় রাধাচুড়া হলুদ গালিচা, ভেজা হাওয়ায় যেন আনমনা বাঁশীর শব্দ। সামান্য মানুষ আমি এর অর্থ বুঝি না, যারা বোঝে তারা ছেড়ে যায় রাজ্যপাট, প্রণয়, সন্তান, ছেড়ে যায় মা কে, নিজের নিরাপদ গার্হস্থ্যটি। যায় কোথায়, যায় না তো, প্রবলভাবে ছেয়ে থাকে যুগ থেকে যুগান্তরে, সে নিরলস যাত্রা কি তার থামে!
মনের অতলে কান পাতলে নিভৃত পদ্মমধু খুঁজে চলা বিবাগী ভ্রমর আমাকে অস্থির করে, গহনমনপথে পথ হারিয়ে দেয়, আমি বহুবাসনায় প্রাণপনে চাইতে গেলে বঞ্চিত করে বাঁচায় আবার পথের অন্বেষণে পাগল করে মারে ..."আমি সেই স্তবে ভরা নীরব পলের পাশাপাশি/কিছুই-না- এর প্রেমে অবলীন ধীর হয়ে আছি"
Comments
Post a Comment